মাসিক বা ঋতুশ্রাবের মতো একটা অতি প্রাকৃতিক বিষয় নিয়ে আজও মানুষের মধ্যে ছুঁৎমার্গ রয়েছে। বাংলাদেশে মাত্র ১৪% নারী পিরিয়ডের সময় প্যাড ব্যবহার করে থাকেন। তবে স্যানিটরি প্যাড ছাড়াও অনেক জিনিস আছে যা ঋতুশ্রাব ধরে রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে, আর তার মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য হলো ট্যাম্পুন। আজকাল বহু মহিলা ট্যাম্পুন ব্যবহার করেন, কারণ প্যাডের তুলনায় এটি অনেকটাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে।

ট্যাম্পুন কি?

ট্যাম্পুন হচ্ছে সুতির তৈরি ছোট সিলিন্ডার বিশেষ, যা ঋতুস্রাব ধরে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি যোনীর ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দিতে হয়ে। এর একদিকে একটি লম্বা সুতো থাকে, যাতে এটি সহজেই বের করে আনা যায়। এই ট্যাম্পুনের দু’টি অংশ হয়ে থাকে। একটি অ্যাপ্লিকেটর এবং অন্যটি ট্যাম্পুন। অনেক রকমের অ্যাপ্লিকেটর বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে ব্যবহারকারীর, যেমন- প্লাস্টিক অথবা কার্ডবোর্ড অ্যাপ্লিকেটর, অ্যাপ্লিকেটর ফ্রি ট্যাম্পুন, স্পোর্টস ট্যাম্পুন। পাশাপাশি এটি বিভিন্ন আকারের এমনকি পিরিয়ডের হেভি ফ্লো এবং লাইট ফ্লো-এর জন্য আলাদা রকমের ট্যাম্পুন পাওয়া যায়। এই ট্যাম্পুন অর্গানিক এবং কেমিকেল-ফ্রি হয়ে থাকে। তবে ট্যাম্পুন কিন্তু ১০০% লিক প্রুফ নয়। এই শঙ্কায় অনেকে ট্যাম্পুন এড়িয়ে চলেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

প্রথমবার ট্যাম্পুন ব্যবহার করার সময় আপনার একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে একবার যদি সঠিকভাবে পরতে পারেন, তাহলে এটি কিন্তু ঋতু চলাকালীন আপনারে মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন এবং আরাম প্রদান করবে। জেনে নেয়া যাক কিভাবে পরবেন –

  • প্রথমে ট্যাম্পুনের মোড়কটি খুলে নিতে হবে। এরপর ট্যাম্পুনের সুতোটি আলতো করে টেনে নিয়ে দেখুন।
  • এবার কোন পজিশানে আপনি ট্যাম্পুন পরতে কমফোর্টেবল সেটা নিশ্চিত করুন। অনেকের দাঁড়িয়ে সুবিধা হয়, অনেকের আবার বসে। ব্যক্তিভেদে একেকজন একেক পজিশানে কমফোর্টেবল।
  • যদি বসে সুবিধা হচ্ছে বলে মনে করেন তাহলে টয়লেট সিটের ওপর বসে দু-পা দুদিকে ফাঁক করে নিন। আর দাঁড়িয়ে হলে একটি পা মাটিতে আর একটি পা ভাঁজ করে টয়লেট সিটের ওপর তুলুন।
  • এবার একটি অ্যাপ্লিকেটরের মধ্যে ট্যাম্পুনটি ভরে নিয়ে ট্যাম্পুনটি আপনার যৌনাঙ্গে প্রবেশ করার। যখনই অনুভব করবেন ট্যাম্পুনটি নিশ্চিতভাবে ঢুকে গিয়েছে, তখন অ্যাপ্লিকেটরটি বের করে আনুন।
  • আর যদি আপনি অ্যাপ্লিকেটর ব্যবহার না করেন তাহলে ট্যাম্পুনের সুতোর অংশের শেষ প্রান্তটিতে আলগা করে আঙুলের চাপে ভিতরে প্রবেশ করান।
  • যারা একেবারে প্রথম ব্যবহার করছেন তারা প্রথমদিন ট্যাম্পুন ইনসার্ট করার একটু অসুবিধা হতে পারে। তবে একবার প্রবেশ করানোর পর কিন্তু এর থেকে রিল্যাক্সিং আর কিছুই হতে পারে না।
  • তবে ট্যাম্পুন কিন্তু ৪-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আরামে ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু তার থেকে বেশি কখনোই না, তাহলে কিন্তু টক্সিক শক সিন্ড্রোম (একপ্রকার ব্যাকটেরিয়াল সিনড্রোম) দেখা দিতে পারে।
  • তবে সারারাত যাদের হেভি ফ্লো হয় তারা কিন্তু ট্যাম্পুনের বদলে মেনস্ট্রুয়াল কাপ বা স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করুন।
  • ট্যাম্পুন বের করার সময় আবার একইভাবে আগের পজিশনে ফিরে যান। এবার সুতোটি ধরে ধীরে ধীরে বের করার চেষ্টা করুন। কোথাও যদি বাধা অনুভব হয়, তাহলে ঘাবড়াবেন না পুনরায় চেষ্টা করুন।
  • যদি ট্যাম্পুনের সুতোটি যোনির ভেতর ঢুকে যায় তাহলে অবিলম্বে গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নিন।
  • মনে রাখবেন যোনীতে ট্যাম্পুন প্রবেশ করালে তা কিন্তু আপনার হাইমেন বা সতীচ্ছদকে কোনও প্রকার আঘাত করে না। অনেকেই এই ভয়ে নিরাপদ এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান না।
  • যাঁরা স্পোর্টস পার্সন, ডান্সার, অ্যাথলিট এমনকি যাঁরা সাঁতার কাটেন তাঁরা অনায়াসেই ট্যাম্পুন ব্যবহার করতে পারেন।

জরুরি টিপস

সাবান দিয়ে হাত ধোয়া

  • ট্যাম্পুন পরার সময় একদম শান্ত থাকুন। নার্ভাস কখনোই হবেন না। আগে থেকে ভয় পেলে কিন্তু বিষয়টি আরো কঠিন হয়ে উঠবে।
  • যোনির শুষ্কতা ট্যাম্পুনের প্রবেশে সমস্যা সৃষ্টি করে। সেরকম হলে ভ্যাজাইনাল লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন। তবে যোনিতে কখনওই পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাবেন না, এতে ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকবে।
  • ট্যাম্পুন পরা এবং খোলার আগে এবং পরে অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • ট্যাম্পুন ব্যবহারের পর তা কাগজে মুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলুন, তা কখনোই ফ্লাশ করবেন না।